লামায় মন্দিরের নিরাপত্তায় তৌহিদী জনতার মানবঢাল

লামায় মন্দিরের নিরাপত্তায় তৌহিদী জনতার মানবঢাল

from Bartabazar.com

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননাকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার বান্দরবানের লামা উপজেলায় স্থানীয় তৌহিদী জনতার মানববন্ধন শেষে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ-বিক্ষুব্ধ জনতার ত্রিমুখী সংর্ঘষ হয়েছে। এঘটনায় ওসিসহ অন্তত ১৯জন আহত হয়।

সবশেষের শুরুতে চোখে পড়ার মতো আলোচনার বিষয় হলো ‘লামা কেন্দ্রীয় হরি মন্দির’ পাহারায় সড়কে তৌহিদী জনতার মানবঢাল। ছবিতে দেখা যায় লামার আলেমসমাজ ও তৌহিদী জনতা মন্দিরে যাওয়ার সড়কমুখে হাতে হাত ধরে মানবঢাল তৈরি করে দাঁড়িয়ে আছে।

জানা যায়, গতকাল সাড়ে ১০টায় কোরআন অবমাননাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ সভার পরপরই উপস্থিত জনতাকে চলে যেতে বললে তারা কারো কথা না শুনে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বাজারের পশ্চিম গলিতে গিয়ে সমাপ্ত করে। পরে বাজারের পূর্ব গলি দিয়ে আচমকা একটা মিছিল মাছ বাজারের মোড়ে সহিংসতা ও ভিড় জমাই। এ সুযোগে বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলের সারিতে যুক্ত হয়ে ৩য় পক্ষের উস্কানির ফলে পার্শ্ববর্তী কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করার চেষ্টা করিলে আলেম ওলামা ও তৌহীদ জনতা তাদের রুখে দেয় এবং মন্দিরে হামলা তথা যাতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে না পারে এ জন্য তারা বেশ জোড়ালো ভূমিকা পালন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাজারের মন্দির ও উচু তলা ভবনের ছাদ থেকে কিছু দুষ্কৃতিকারী, মিছিল লক্ষ্য করে ইট ও মরিচের গুড়া নিক্ষেপ করলে দেখা দেয় চরম উত্তেজনা। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলে শুরু হয় প্রায় ৩/৪ ঘন্টা ব্যাপী ত্রিমুখী সংর্ঘষ। এসময় উত্তেজিত বিক্ষুব্ধ জনতা বাজারে মন্দিরের সামনে নির্মিত পুজাঁর পেন্ডেল ও চেয়ার ভাংচুর চালায়। তবে মণ্ডপ অক্ষত। আশপাশের হিন্দুদের দোকানপাট মেচাকার! পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে মিছিলের সময় মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আগে থেকেই সেখানে আলেম ও তৌহিদী জনতার একদল হাতে হাত ধরে মানবঢাল তৈরি করে। যাতে করে কেউ মন্দিরে হামলা করে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের সৃষ্টি করতে না পারে।

আলেমদের নির্দেশেই তারা মন্দির নিরাপত্তায় নিশ্চিত করে বলে জানা গেছে। একদিকে মন্দির পাহারা অন্যদিকে শান্তিময় প্রতিবাদ সভা। দুই কাজেই সরব উপস্থিতিতে সচেতন ভুমিকা রাখে আলেমসমাজ।

এ ব্যাপারে নেতৃত্বাধীন আলেম ওলামা জানিয়েছেন, ‘লামায় প্রতিবাদ সভা শুরুর আগেই মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি আমরা। তৌহিদী জনতার আন্দোলন কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে। যারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে তাদের বিরুদ্ধে’। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে উস্কানিমূলক গুজব রটিয়ে যারা অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তীব্রতর প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য যে, কুমিল্লা পূজামন্ডপে পবিত্র কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর লামায় প্রতিবাদ সভা করেছে উপজেলার সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা। এসময় বক্তব্য রাখেন, লামা কোর্ট জামে মসজিদের ইমাম মাও. আজিজুল হক, লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম, লামা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. ইব্রাহিম।

এম. মিজানুর রহমান/বার্তা বাজার/অমি


Comments

Popular posts from this blog

ঈদুল আজহায় টানা ১০ দিনের মহোৎসব: দীর্ঘ ছুটির ফাঁদে সরকারি দপ্তর, আনন্দে ভাসছেন চাকরিজীবীরা

Samsung Galaxy S27-এ আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: ম্যাগনেটিক অ্যাকসেসরিজের জন্য বদলাচ্ছে ক্যামেরার রূপ